ধাপে ধাপে ফোন নম্বর দিয়ে WhatsApp-এ সাইন আপ
WhatsApp অ্যাকাউন্ট একটি ফোন নম্বরের সাথে যুক্ত: সাইন আপের জন্য অ্যাপ এবং এমন একটি নম্বরই যথেষ্ট, যেখানে SMS বা কল আসতে পারে। পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক মিনিট লাগে, তারপর শুধু প্রোফাইলের নাম দিতে হয়।
এই নিবন্ধে
সাইন আপের আগে
- WhatsApp-এর শর্তাবলী অনুযায়ী কমপক্ষে ১৩ বছর বয়স হতে হবে; কিছু দেশে বয়সসীমা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। ১৮ বছরের কম হলে বাবা-মায়ের সাথে শর্তাবলী পড়ে নেওয়া ভালো।
- শুধু নিজের, সাইন আপের সময় হাতের কাছে থাকা নম্বরই দেওয়া যায়: কোড এখানেই SMS বা কলে আসে। সহায়তা অনুযায়ী ল্যান্ডলাইন, VoIP, টোল-ফ্রি ও প্রিমিয়াম রেটের নম্বর দিয়ে সাইন আপ করা যায় না; ল্যান্ডলাইন নম্বর শুধু WhatsApp Business অ্যাপ গ্রহণ করে।
- একটি ফোন নম্বরে একটিই WhatsApp অ্যাকাউন্ট থাকে; WhatsApp Business-ও লাগলে তার জন্য অন্য নম্বর দরকার। নম্বরটিতে আগে অ্যাকাউন্ট থেকে থাকলে সাইন আপ সেই অ্যাকাউন্টটিই নতুন ফোনে নিয়ে আসে, নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করে না।
- কল ব্লক করার সেটিংস ও অ্যাপ বন্ধ করুন। রুট বা জেলব্রেক করা ফোনে সাইন আপ সমর্থিত নয়।
- পুরনো কোনো ফোনে একই নম্বরে WhatsApp চললে আগে চ্যাট ব্যাকআপ নিয়ে রাখা ভালো, কারণ সাইন আপের পরে পুরনো ফোন থেকে অ্যাকাউন্টটি লগ আউট হয়ে যায়: WhatsApp চ্যাট ব্যাকআপ ও রিস্টোর।
অ্যাপ ইনস্টল করা
WhatsApp বিনামূল্যে। Android-এ Google Play থেকে, iPhone-এ App Store থেকে ডাউনলোড করতে হয়; whatsapp.com/download পেজও এই স্টোরগুলিতেই নিয়ে যায়। অন্য উৎসের পরিবর্তিত WhatsApp সংস্করণ ইনস্টল করা উচিত নয়।
ধাপে ধাপে সাইন আপ
- WhatsApp খুলে “সম্মত হন ও চালিয়ে যান”-এ ট্যাপ করে পরিষেবার শর্তাবলী মেনে নিন।
- ড্রপডাউন তালিকা থেকে দেশ বেছে নিন (এতে + ও দেশের কোড যুক্ত হয়), এবং ফোন নম্বরটি লিখুন, শুরুর 0 বা অন্য কোনো ট্রাঙ্ক প্রিফিক্স ছাড়া। এরপর “পরবর্তী” বোতামে ট্যাপ করুন।
- অ্যাপটি যাচাইয়ের জন্য নম্বরটি দেখায়। ভুল থাকলে এখানেই ঠিক করা যায়; সঠিক হলে এগিয়ে যান।
- WhatsApp SMS-এ ৬ অঙ্কের রেজিস্ট্রেশন কোড পাঠায়। Android-এ অ্যাপটি প্রায়ই SMS থেকে নিজেই কোডটি পড়ে নেয়; নইলে হাতে লিখতে হয়। বর্তমান অ্যাকাউন্টে আগে ইমেল ঠিকানা যোগ করা থাকলে কোড ইমেলেও চাওয়া যায়।
- কোড না এলে “কোড পাননি?”-এ ট্যাপ করে “SMS” বা “কল” বিকল্প বেছে নেওয়া যায়। তার আগে অগ্রগতির বারটি শেষ পর্যন্ত পৌঁছানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়; এতে সাধারণত কয়েক মিনিট লাগে। SMS ও কলের জন্য মোবাইল অপারেটর চার্জ নিতে পারে।
- অ্যাকাউন্টে আগে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু থাকলে কোডের পরে এর PIN বা পাসওয়ার্ডও দিতে হয়।
- এরপর WhatsApp বর্তমান অ্যাকাউন্ট রিস্টোর বা নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির প্রস্তাব দেয়। নম্বরটির চ্যাট ব্যাকআপ থাকলে (Android-এ WhatsApp ক্লাউড স্টোরেজে বা Google অ্যাকাউন্টে, iPhone-এ iCloud-এ) এখানেই রিস্টোর করা যায়; পরে শুধু আবার ইনস্টল করে।
- শেষে প্রোফাইলের নাম দিন। যাঁদের ফোনে নম্বরটি এখনও সেভ করা নেই, তাঁরা এটি দেখতে পান। প্রোফাইল ছবিও আপলোড করা যায়, তবে বাদ দেওয়া যায়।
কোড না এলে
- নম্বর ভুল: দেশের কোড ও নম্বর যাচাই করুন। দেশের কোডের পরে শুরুর 0 লাগাতে হয় না।
- নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট নেই: দেওয়া নম্বরসহ ফোনটি মোবাইল নেটওয়ার্কে থাকতে হবে, এবং চালু মোবাইল ডেটা বা Wi-Fi-ও লাগবে। সহায়তা অনুযায়ী রোমিংয়ে বা দুর্বল সংযোগে সাইন আপ সবসময় কাজ করে না।
- SMS ব্লক হচ্ছে: অপারেটরের বা অ্যাপের কিছু ফিল্টার ও কল ব্লকার ছোট কোড-মেসেজ আটকে দিতে পারে। স্প্যাম বা অজানা প্রেরকের ফোল্ডারও দেখে নিন।
- অনেকবার চেষ্টা: কোড আন্দাজে লিখবেন না, কারণ এতে নম্বরটি কিছু সময়ের জন্য আটকে যায়। তখন অ্যাপ অপেক্ষার সময় দেখায়; টাইমার শেষ হওয়ার আগে আবার ইনস্টল করলেও কাজ হয় না।
- কেউ মেসেজে বা ফোনে কোড চাইছে: রেজিস্ট্রেশন কোড কাউকে দেবেন না, পরিচিত কাউকেও না। কোড যার কাছে থাকে, সে অ্যাকাউন্ট দখল করে নিতে পারে।
- পুরনো ফোনে চ্যাট ব্যাকআপ নিতে হবে
- নতুন ফোনে একই নম্বর দিয়ে সাইন আপ করতে হবে
- দেখানো রিস্টোরের প্রস্তাব গ্রহণ করতে হবে
- পুরনো ফোন থেকে অ্যাকাউন্ট নিজে থেকে লগ আউট হয়ে যায়
- সাধারণভাবে সাইন আপ করতে হবে
- আগের মালিকের চ্যাট দেখা যায় না
- প্রোফাইলের নাম ও ছবি নতুন করে সেট করতে হবে
নম্বরটিতে আগে অ্যাকাউন্ট থাকলে
WhatsApp অ্যাকাউন্ট ফোন নম্বরের সাথে যুক্ত, ডিভাইসের সাথে নয়। তাই এই পরিস্থিতিগুলি হতে পারে:
- নিজের আগের অ্যাকাউন্ট: সাইন আপ নতুন ফোনে সেই অ্যাকাউন্টটিই খোলে। গ্রুপের সদস্যপদ থেকে যায়, তবে চ্যাট আসে শুধু ব্যাকআপ থেকে বা সরাসরি ট্রান্সফারে: চ্যাটসহ WhatsApp নতুন ফোনে নেওয়া।
- পুনর্ব্যবহৃত নম্বর: অপারেটররা বন্ধ হয়ে যাওয়া নম্বর কিছু সময় পরে আবার অন্যকে দেয়। আগের মালিক অ্যাকাউন্ট মুছে না দিলে নতুন সাইন আপ নম্বরটি নিয়ে নেয়, তবে তাঁর চ্যাট ও ব্যাকআপ পাওয়া যায় না।
- অন্য ফোনে কেউ এখনও নম্বরটি ব্যবহার করছে: নতুন ডিভাইসে কোড দেওয়া না হওয়া পর্যন্ত পুরনো অ্যাকাউন্ট চলতে থাকে। সফল সাইন আপের পরে পুরনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্ট লগ আউট হয়ে যায়।
- সাইন আপের পরে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে: শর্তাবলী অনুযায়ী দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়া অ্যাকাউন্ট WhatsApp মুছে দিতে বা বন্ধ করতে পারে।
সাইন আপের পরে যা করা ভালো
- অ্যাকাউন্টের সেটিংসে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু করা: তাহলে রেজিস্ট্রেশন কোড পেলেও অন্য কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না।
- পাস-কি তৈরি করা: সহায়তা অনুযায়ী সাইন আপ ও প্রোফাইল সেটআপের পরে এটি তৈরি করা যায়, এবং আঙুলের ছাপ, মুখ বা স্ক্রিন লক দিয়ে পরিচয় যাচাই করে।
- কে প্রোফাইল ছবি, স্ট্যাটাস ও শেষ সক্রিয়তা দেখতে পারে তা দেখে নেওয়া: WhatsApp-এর প্রাইভেসি সেটিংস।
- স্বয়ংক্রিয় চ্যাট ব্যাকআপ চালু করা, যাতে ফোন বদলালে বা নষ্ট হলেও মেসেজ হারিয়ে না যায়।
- কম্পিউটারে লেখা বেশি সুবিধাজনক হলে: WhatsApp ওয়েব ও ডেস্কটপ অ্যাপে লগ ইন।
কাজ না করলে
ফোন নম্বর ছাড়া কি সাইন আপ করা যায়?
না: WhatsApp অ্যাকাউন্টের জন্য একটি ফোন নম্বর লাগে, যেখানে কোড আসে। পরে সেট করা যায় এমন ইউজারনেম শুধু এটুকু সম্ভব করে যে অন্যরা নম্বর না জেনেও মেসেজ পাঠাতে পারে।
যে ফোনে WhatsApp ইনস্টল করব, তাতে কি SIM কার্ড লাগবে?
শুধু কোড পাওয়ার জন্য নম্বরটি হাতের কাছে থাকতে হবে। SMS বা কল অন্য ফোনে এলে SIM ছাড়া ডিভাইসেও WhatsApp-এ সাইন আপ করা যায়, তারপর Wi-Fi-তেও চলে। সহায়তা অনুযায়ী ল্যান্ডলাইন নম্বর WhatsApp-এ ব্যবহার করা যায় না, শুধু WhatsApp Business-এ।
একটি ফোনে কি দুটি WhatsApp অ্যাকাউন্ট রাখা যায়?
হ্যাঁ, Android ও iPhone দুটিতেই একটি অ্যাপের ভেতরে দুটি অ্যাকাউন্টে লগ ইন করা যায়। দুটির জন্যই আলাদা ফোন নম্বর লাগে, এবং দুটিই আলাদাভাবে সাইন আপ করতে হয়।
কম্পিউটারে বা ট্যাবলেটে কি সাইন আপ করা যায়?
কম্পিউটারে নয়: WhatsApp ওয়েব ও ডেস্কটপ অ্যাপ একটি বর্তমান অ্যাকাউন্টের সাথে যুক্ত হয়। সহায়তায় iPad-কে সাইন আপের জন্য অসমর্থিত ডিভাইস বলা হয়েছে, যদিও WhatsApp জুলাই ২০২৬-এ iPad-এ সাইন আপের ঘোষণা দিয়েছিল। বিস্তারিত: WhatsApp ওয়েবে লগ ইন।
WhatsApp কোডসহ SMS পেয়েছি, কিন্তু আমি চাইনি
কেউ ভুল করে বা ইচ্ছা করে কোনো সাইন আপে নম্বরটি লিখেছে। কেউ কোডটি না দেওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে কোনো পরিবর্তন হয় না। কোডটি কাউকে দেবেন না; টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বাড়তি সুরক্ষা দেয়।